শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ০৯:২৮:১৬

বাংলাদেশকে সমর্থন ব্রাজিলের

বাংলাদেশকে সমর্থন ব্রাজিলের

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : ২০২৬ সালের ২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের নির্বাচনে ব্রাজিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে।

গতকাল শুক্রবার ব্রাজিলের পালাসিও দো প্লানালতোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিমের মধ্যে এক বৈঠক হয়।

বৈঠকে আমোরিম এই প্রতিশ্রুতি দেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ব্রাজিল সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারি, বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং গ্লোবাল সাউথের সংহতির নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে আমোরিম বলেন, ব্রাজিলের এই সমর্থন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকা, অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিকতার প্রতি অঙ্গীকার এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ব্রাজিলের এই সমর্থনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বিশ্ব যখন যুদ্ধ, বৈষম্য, জলবায়ু সংকট ও বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতার মতো জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন জাতিসংঘকে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক, কার্যকর ও ন্যায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের অর্থনীতি পরস্পরকে পরিপূরক করতে সক্ষম। বাংলাদেশ তুলা, সয়াবিন, চিনি, কৃষিপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল ব্রাজিল থেকে আমদানি করে। আর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাটজাত পণ্য ও সিরামিক ব্রাজিলে রপ্তানির সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়াতে পারে।

বৈঠকে উপদেষ্টা আমোরিম বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতিবেশী পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। জবাবে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে ‘সমতা, মর্যাদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পৃক্ততা’-এর ভিত্তিতে।

বৈঠকে হুমায়ুন কবির ব্রিকসের সদস্য পদ লাভে বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং ব্রাজিলের সমর্থন চান। জবাবে উপদেষ্টা আমোরিম অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব দেখান। তিনি বিষয়টি প্রেসিডেন্ট লুলার সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন বলেও জানান।

বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ-ব্রাজিল বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন যে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় চার বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে তাঁরা স্বীকার করেন যে বিপুল সম্ভাবনার তুলনায় বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখনো অপর্যাপ্ত।

হুমায়ুন কবির জানান, এরই মধ্যে দুই দেশের মধ্যে ১০টি আইনগত দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। আরো ১৬টি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, কৃষি, শিক্ষা ও উদ্ভাবনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Follow করুন এমটিনিউজ২৪ গুগল নিউজ, টুইটার , ফেসবুক এবং সাবস্ক্রাইব করুন এমটিনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলে